বগুড়া সিটি নিউজ : বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের টানা ঊর্ধ্বগতি, আকাশচুম্বী শিপিং চার্জ এবং বিপিসির বিপুল আর্থিক লোকসান সামাল দিতে অবশেষে দেশে সব ধরনের তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়াল সরকার। হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়লেও, পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না বলে জানা গেছে।
গতকাল রাত থেকেই নতুন এই দাম কার্যকর করা হয়েছে। পুনর্নির্ধারিত দর অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকায়।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক মাস আগেই। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে তৈরি হওয়া ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে তেলের দাম। তার ওপর যুক্ত হয় বৈশ্বিক ডলার সংকট ও আমদানির জন্য জাহাজ ভাড়ার বাড়তি মাশুল। ফলে কম দামে তেল এনে দেশে কম দামে সরবরাহ করতে গিয়ে বিপিসি প্রতিদিন প্রায় ১০৯ কোটি টাকা লোকসান গুনছিল।
গতকাল দুপুরে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে তেলের নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত আসে। বৈঠকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, "আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোতেও তেলের দাম অনেক বেশি ছিল। বাংলাদেশে দাম কম থাকায় সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের বড় একটা ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। লোকসান কমানো এবং চোরাচালান ঠেকাতেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।"
এদিকে তেলের দাম বৃদ্ধির খবর ছড়িয়ে পড়তেই গতকাল সন্ধ্যা থেকে রাজধানীর পাম্পগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে অনেক পাম্পে সাময়িক সামলানো দায় হয়ে পড়ে। তবে মধ্যরাত থেকে নতুন দর কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের উপায় ছিল না ঠিকই, তবে ডিজেল ও পেট্রোলের দাম বৃদ্ধির ফলে গণপরিবহন, পণ্য পরিবহন ও কৃষি সেচ ব্যবস্থায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
মন্তব্যComments