দখলে থাকা ৬৩ কোটি টাকার জলাশয় উদ্ধার
জালিয়াতির মাধ্যমে শ্রেণী পরিবর্তন করে বগুড়া শহরের স্টেশন রোড-সংলগ্ন চকবৃন্দাবন মৌজার ৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের রেলওয়ের ১.২৮ একর প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাটের অপচেষ্টা শেষ পর্যন্ত নস্যাৎ করে দিয়েছে প্রশাসন। গতকাল বুধবার অভিযান চালিয়ে জলাশয়টিতে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন। একই সঙ্গে স্থানটির সীমানা নির্ধারণ এবং ভরাটকৃত মাটি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে।
উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে লিজ গ্রহীতা ও ব্যবসায়ীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, প্রায় ৯৪ শতক জমির লিজ প্রক্রিয়ায় ৫০ জন ব্যবসায়ী সম্পৃক্ত থেকে সরকারি কোষাগারে প্রায় এক কোটি ৯ লাখ টাকা খাজনা জমা দিয়েছেন। রেলওয়ের কাছ থেকে লিজ নেওয়ার পর সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসন এটিকে অবৈধ ঘোষণা করায় তারা বিস্ময় প্রকাশ করেন।
অনুমতিও নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে রেলওয়ের কানুনগো রাজিবুজ্জামান নিশ্চিত করেন, আরএস খতিয়ানে জমিটি পুকুর হিসেবেই উল্লেখ ছিল এবং সেই অনুযায়ী লিজ দেওয়া হয়েছিল; পরে ভিটা করার আবেদন জেলা প্রশাসন নাকচ করে দেয়।
উচ্ছেদ অভিযানে উপস্থিত কর্মকর্তা ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন জানান, শহরের পরিধি বাড়লেও ফায়ার সার্ভিসের জরুরি পানি পাওয়ার মতো কোনো বড় জলাশয় ছিল না; এটি অগ্নিনির্বাপণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, উদ্ধারকৃত জলাশয়টি দ্রুত পুনঃখনন করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। ভবিষ্যতে এই ১ একর ২৮ শতক আয়তনের জলাশয়টিকে শহরের নগরবাসীর জন্য একটি দৃষ্টিনন্দন লেক ও বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
'সমকাল'-এর অনুসন্ধানে উঠে আসে, ২০২৩ সালে কৃষি লিজ হিসেবে নেওয়ার পর সরকারি এই জলাশয়টিকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের চক্রান্ত শুরু হয়।
মন্তব্যComments